অপ্রত্যাশিত বদলির নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, এনআরসি-র প্রধানকে তোপ অসম বিজেপির

অসমের এনআরসি (NRC in Assam) তৈরি করা প্রতীক হাজেলাকে মধ্যপ্রদেশে বদলির নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট

অপ্রত্যাশিত বদলির নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, এনআরসি-র প্রধানকে তোপ অসম বিজেপির

অসমের এনআরসি(NRC in Assam) তালিকা থেকে বাদ পড়ায় বিক্ষোভে সামিল হন বহু মানুষ।

গুয়াহাটি:

অসমের জাতীয় নাগরিকরঞ্জী (of Assam's National Register of Citizens) বা এনআরসি তৈরির দায়িত্বে আধিকারিককে একদিন আগেই মধ্যপ্রদেশে বদলির নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট, তারপরেই ফের সেই  আধিকারিকের বিরুদ্দে তোপ দাগল রাজ্য বিজেপি। এনআরসির দায়িত্বে থাকা আধিকারিক প্রতীক হাজেলার (Prateek Hajela) বিরুদ্ধে, ভুল এনআরসি (NRC) করে অসমের নাগরিকদের আবেগ নিয়ে খেলার অভিযোগ তুলেছেন অসমের বিজেপি সভাপতি রঞ্জীত কুমার দাস, পাশাপাশি এনআরসি করতে খরচ হওয়া ১,৬০০ কোটি টাকারও দাবি তোলা হয়েছে। অসমের বিজেপি সভাপতি বলেন, “প্রত্যেকটি টাকা কীভাবে খরচ হয়েছে” তার ব্যাখা না দেওয়া পর্যন্ত এনআরসির কোঅর্ডিনেটরকে বদলি করা উচিত হয়নি।

নাগরিকত্ত্বের তালিকায় বাদ প্রাক্তন সেনাকর্মী, “অবাক হননি” তিনি

সুপ্রিম কোর্টে বিষয়টি  তোলার জন্য  রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে আবেদন জানিয়েছে অসম বিজেপি।

অসমের এনআরসি (NRC in Assam) তৈরি করা প্রতীক হাজেলাকে মধ্যপ্রদেশে বদলির নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট, তাতে হতবাক হন অনেকেই, তারমধ্যে রয়েছেন সরকারের শীর্ষ আইনজীবীও।

অবিলম্বে ওই আধিকারিকের বদলির নির্দেশিকা জারি করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, তবে কোনও কারণ উল্লেখ করেননি তিনি। প্রতীক হাজেলার ঘনিষ্ঠ মহলের সূত্রের অনুমান, ডেপুটেশনে তিনি যেতে চেয়েছিলেন এবং তা মঞ্জুর করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

NDTV কে প্রতীক হাজেলা বলেন, “আমায় আদালত নিয়োগ করেছে। আমার যা বলার ছিল, আমি আদালতে জানিয়েছি। আদালত আমায় ডেপুটেশনে মধ্যপ্রদেশে বদলি করেছে”।

৬ বছর আগে, তাঁকে অসমের নাগরিক তালিকা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়, এটি এমন একটি জটিল কাজ, যার ফলে সাম্প্রদায়িক এবং ভাষাগত বিভাজন তৈরি হয়।

অসম এনআরসির কো-অর্ডিনেটরকে মধ্যপ্রদেশে বদলির নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

তাঁকে একজন দক্ষ আধিকারিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যিনি এই কাজটি করে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে পারবেন। 

প্রতীক হাজেলার টিমে ছিলেন ৫০,০০০ আধিকারিক। নাগরিক তালিকায় ত্রুটির অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছে রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে নাগরিক সংগঠনগুলি।

সবচেয়ে বেশী সমালোচনায় মুখর হয়েছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব, তাঁদের অভিযোগ, ৩১ অগস্ট অসমের এনআরসির যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে বাদ পড়েছেন বহু হিন্দু, যাঁরা প্রকৃত নাগরিক। অসমের জাতীয় নাগরিকপঞ্জী থেকে বাদ পড়ে ১৯ লক্ষ মানুষের নাম।

More News