সব বয়সী মহিলারাই প্রবেশ করতে পারবেন মন্দিরে, বিতর্কের মধ্যেই খুলল শবরীমালা মন্দির

Sabarimala Temple: কেরল স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন পাম্বা ও নীলকলের মধ্যে প্রায় ১৮ কিলোমিটার পথ ভক্তদের আসার জন্য ১৫০ টি বাস মজুত রেখেছে

সব বয়সী মহিলারাই প্রবেশ করতে পারবেন মন্দিরে, বিতর্কের মধ্যেই খুলল শবরীমালা মন্দির

Sabarimala, Kerala: রাজ্য সরকারে নির্দেশই অনুসরণ করছে মন্দির কর্তৃপক্ষও

শনিবার বিকেল থেকেই খুলে গেল কেরলের ঐতিহ্যমণ্ডিত শবরীমালা মন্দিরের প্রবেশদ্বার। তবে মন্দির খোলার আগেই ১০ জন মহিলাকে ফিরিয়ে দেওয়া হল মন্দিরের প্রবেশদ্বার থেকে। ৪০ দিনের বার্ষিক তীর্থযাত্রার এই সময় নিয়ে সতর্ক রয়েছে কেরল সরকার। শবরীমালা মন্দির কোনও আন্দোলন করার জায়গা নয়, ফলে এখানে কোনও আন্দোলন-বিক্ষোভ মেনে নেওয়া হবে না, আগেই জানিয়ে দিল সে রাজ্যের প্রশাসন। পাশাপাশি শবরীমালায় (Sabarimala Temple) যেতে ইচ্ছুক কোনও মহিলা আন্দোলকারী, বা রাজনৈতিক নেত্রীকে কোনও রকম পুলিশি নিরাপত্তা আলাদা করে দেওয়া হবে না, তাও জানিয়েছে সরকার (Kerala Government)। এর আগে ২০১৮ সালে সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে ওই মন্দিরে সব বয়সের মহিলাদেরই প্রবেশের অনুমতি দেয়। কিন্তু সেই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জমা পড়ে শীর্ষ আদালতে। বর্তমানে ওই আবেদন পুনর্বিবেচনা করে দেখার জন্যে ৭ বিচারপতির বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে। তবে যতক্ষণ না ৭ বিচারপতির বেঞ্চ সুপ্রিম কোর্টের আগের রায় পর্যালোচনা করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সব বয়সের মহিলাদেরই প্রবেশাধিকার থাকছে শবরীমালায়। আজ (শনিবার) বিকেল ৫টার সময় খোলা হল ঐতিহ্যমণ্ডিত ওই মন্দিরের (Sabarimala) প্রবেশদ্বার। আপাতত ওই এলাকায় দশ হাজারেরও বেশি পুলিশ মোতায়েন করেছে কেরল সরকার, মন্দির চত্বরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

এখানে রইল ১০ টি তথ্যঃ

  1. কেরলের দেবস্বম মন্ত্রী কাদাকম্পলি সুরেন্দ্রন এক সরকারি বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, যে সব মহিলা সুরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশ করতে চান তাঁদের আদালতের নির্দেশ নিয়ে আসতে হবে, না হলে সরকারের পক্ষ থেকে আলাদা করে কোনও সুরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়া হবে না তাঁদের। তিনি বলেন, "এটা প্রতিবাদ-আন্দোলন করার জায়গা নয়। ত্রুপ্তি দেশাইয়ের মতো কর্মীদের জন্যেও এটা শক্তি প্রদর্শন করার জায়গা নয়। আমরা তাঁদের দায়িত্বও নেব না। তাঁদের এখানে আসতে হলে আদালতের নির্দেশ নিয়ে আসতে হবে" ।
     

  2. কেরলের ওই মন্ত্রী পবিত্র আরাধনার সময় সংবাদমাধ্যমের কর্মীদেরও সংযম ধরে রাখতে বলেছেন। "নেতাকর্মীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া এবং উন্মত্ততা দেখানো, এগুলো নিশ্চয়ই সংবাদমাধ্যমের কাজ নয়। কিছুটা রাজনৈতিক আলোড়ন তৈরির জন্যে কয়েকটি দল অবশ্যই চেষ্টা করবে, তবে সংবাদমাধ্যমের এতে অংশ নেওয়া উচিত নয়", বলেন তিনি।
     

  3. এদিকে পুণের মহিলা অধিকার রক্ষা কর্মী ত্রুপ্তি দেশাই, যিনি গত বছরও শবরীমালা মন্দিরে রজঃস্বলা মহিলাদের প্রবেশের উপর শতাব্দী প্রাচীন নিষেধাজ্ঞাকে ভেঙে সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন, তিনি বলেন যে কেরল সরকার তাঁকে সুরক্ষা না দিলেও তিনি ২০ নভেম্বর পরে শবরীমালায় যাবেন।  "আমি ২০ নভেম্বরের পরে শবরীমালায় যাব। আমরা কেরল সরকারের থেকে সুরক্ষাও চাইব এবং আমাদের তাঁরা সুরক্ষা দেবে কি না সেটা তাদের বিষয়। সুরক্ষা না দেওয়া হলেও আমি শবরীমালা দর্শনে যাব", বলেন দেশাই।
     

  4. অন্যদিকে কেরল সরকারের সুরেই সুর মিলিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতের আদেশের পরে তাঁরা এ বিষয়ে আইনি পরামর্শও চেয়েছে। ত্রাভানকোড় দেবস্বম বোর্ডের সভাপতি এন ভাসু বলেন, "আমরা পুরুষ বা মহিলাকে আলাদা করে শবরীমালায় আসতে বলি না। ভক্তরা নিজেরাই আসেন। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক আদেশের পরে যুবতী মহিলাদের এই মন্দিরে প্রবেশের বিষয়ে আমাদের স্পষ্ট করে কয়েকটি বিষয় জানা প্রয়োজন, তাই আমরা আইনি পরামর্শ নেওয়ার ভাবনাচিন্তা করছি"।
     

  5. ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে শবরীমালা নিয়ে রায় দেওয়ার সময় সুপ্রিম কোর্ট বলে, “বিধিনিষেধকে কখনওই ধর্মীয় প্রথার অংশ হিসেবে তুলে ধরা যায় না”। আদালত ওই সময় জানিয়েছিল, এই প্রথা আসলে একরকম অস্পৃশ্যতাকেই তুলে ধরার চেষ্টা করে, যা কাম্য নয়। প্রতিটি ব্যক্তির সাংবিধানিক অধিকারকে গুরুত্ব দিয়েই ওই ঐতিহাসিক রায় দেয় শীর্ষ আদালত।
     

  6. গত বছরের সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরে মন্দির প্রবেশ নিয়ে বেশ কিছু সহিংস বিক্ষোভ দেখা যায়। এরপরেই সুপ্রিম কোর্টের রায় পুনর্বিবেচনার জন্যে ৬০টিরও বেশি আবেদন জমা পড়ে। আবেদনে যুক্তি দেওয়া হয় যে এই মন্দিরের দেবতা একজন "ব্রহ্মচারী" এবং "শতাব্দী প্রাচীন বিশ্বাস" চালু রয়েছে এখানে যে এই মন্দিরে রজঃস্বলা মহিলারা প্রবেশ করলে ক্ষুব্ধ হবেন আয়াপ্পা দেব।
     

  7. ২০১৮ সালে সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে ওই মন্দিরে ১০ থেকে ৫০, সব বয়সের মহিলাদেরই প্রবেশের অনুমতি দেয়। কিন্তু সেই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জমা পড়ে শীর্ষ আদালতে। বর্তমানে ওই আবেদন পুনর্বিবেচনা করে দেখার জন্যে ৭ বিচারপতির বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে। তবে যতক্ষণ না ৭ বিচারপতির বেঞ্চ সুপ্রিম কোর্টের আগের রায় পর্যালোচনা করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সব বয়সের মহিলাদেরই প্রবেশাধিকার থাকছে শবরীমালায়।

  8. ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেছেন, সব বয়সের মহিলাদের শবরীমালায় প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত কিনা এই প্রশ্ন একটি বড়সড় বিতর্ক তৈরি করেছে। এর মধ্যে মুসলিম ও পার্সি মহিলাদের ধর্মীয় স্থানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার মতো বিষয়ও রয়েছে। তাই এটি পর্যালোচনা করার জন্যে আরও বৃহত্তর বেঞ্চের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রধান বিচারপতি বলেন, "সব পক্ষকে নতুন করে সুযোগ দেওয়া উচিত"।
     

  9. শবরীমালা মন্দির খোলার বিষয়ে পাঠানমত্থিত জেলার প্রশাসনের তরফ থেকে বলা হয়েছে যে মন্দিরে শৌচাগার, পানীয় জল এবং চিকিৎসাজনিত জরুরি সমস্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। "সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা ৮০০ এরও বেশি চিকিৎসা সহায়তাকারী এখানে রেখেছি এবং ১৬ টি জরুরি চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করেছি। প্রায় ২,৪০০ টি শৌচাগার এবং ২৫০-রও বেশি জলের কিয়স্ক রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এক হাজারেরও বেশি সাফাইকর্মী মোতায়েন রয়েছে মন্দির চত্বরে", সংবাদসংস্থা এএনআইকে জানান পি বি নুহ ।
     

  10.  কেরল স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন পাম্বা ও নীলক্কলের মধ্যে প্রায় ১৮ কিলোমিটার পথ ভক্তদের আসার জন্য ১৫০ টি বাস মজুত রেখেছে বলেও জানা গেছে।



More News