জন্মালে চিকিৎসা পাবে না অসুস্থ শিশু, ২৮ সপ্তাহে গর্ভপাত চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মহিলা

গর্ভপাতের আইন ১৯৭১ (Termination of Pregnancy Act 1971) অনুসারে, ভ্রূণের বয়স ২০ সপ্তাহ বা তারও বেশি হয়ে গেলে গর্ভপাতের জন্য হাইকোর্টের অনুমতি নিতে হবে।

জন্মালে চিকিৎসা পাবে না অসুস্থ শিশু, ২৮ সপ্তাহে গর্ভপাত চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মহিলা

বিভাগীয় বেঞ্চ শুনানি শেষ করে তার রায় সংরক্ষিত রেখেছে, যা আগামী সপ্তাহের শুরুতেই জরুরি ভিত্তিতে জানানো হবে

কলকাতা:

২৮ সপ্তাহের ভ্রূণের গর্ভপাতের অনুমতি চাইতে শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন ৪২-বছর বয়সী এক মহিলা। মেডিক্যাল রিপোর্টে জানা গিয়েছে তাঁর গর্ভস্থ সন্তান ডাউন সিন্ড্রোম, হৃদয় ও পেটের নানা ত্রুটি সহ জন্মগ্রহণ করতে চলেছে। সেই কারণেই এই গর্ভপাতের অনুমতি চাইছেন মহিলা। একক বেঞ্চ মহিলার গর্ভপাতের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করার পর তাঁর আইনজীবী কল্লোল বসু এবং অপলক বসু আদালতের ডিভিশন বেঞ্চে হাজির হয়েছেন। এত বেশি সপ্তাহের গর্ভস্থ সন্তানকে হারানোর মতো ঘটনা যে কোনও মায়ের কাছেই প্রায় দুঃস্বপ্ন! কিন্তু এর পরেও, ওই মহিলার বয়স এবং অসুস্থ শিশুর চিকিত্সা ও যত্নের জন্য আর্থিক অবস্থা না থাকার বিষয় মাথায় রেখেই তিনি গর্ভপাতের আবেদন করেছেন। 

Pulwama Attack: “এবার নেতারা আসবেন, বড় বড় কথা বলবেন”, বলছেন নিহত জওয়ানের ক্ষুব্ধ কন্যা

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বি সমাদ্দারের নেতৃত্বে বিভাগীয় বেঞ্চকে জানানো হয়েছে, পরিবারটির আর্থিক অবস্থার কারণে জন্মের পরে শিশুটি যথাযথ চিকিৎসার অভাবে আরও সমস্যায় পড়বেন। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আবেদনকারী একজন গৃহবধূ। সরকারি হাসপাতালগুলি এত বেশি সপ্তাহের ভ্রূণের গর্ভপাতের বিষয়ের বিরুদ্ধে। যদি এই মহিলাকে গর্ভপাতের অনুমতি দেওয়া হয় তবে সেই চিকিৎসার জন্য একটি ভালো বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। মহিলার স্বামী (৪৮) একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন, বেতন খুবই সামান্য। দম্পতির ১৩ বছর বয়সী একটি স্কুলপড়ুয়া সন্তানও রয়েছে।

বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায় সহ এই বিভাগীয় বেঞ্চ শুনানি শেষ করে তার রায় সংরক্ষিত রেখেছে, যা আগামী সপ্তাহের শুরুতেই জরুরি ভিত্তিতে জানানো হবে। গর্ভপাতের আইন ১৯৭১ (Termination of Pregnancy Act 1971) অনুসারে, ভ্রূণের বয়স ২০ সপ্তাহ বা তারও বেশি হয়ে গেলে গর্ভপাতের জন্য হাইকোর্টের অনুমতি নিতে হবে। ২৯ জানুয়ারি হাইকোর্টের একক বেঞ্চ এই মহিলার গর্ভপাতের আবেদনে অনুমতি দেয়নি, সেই সময় ভ্রূণের বয়স ছিল ২৬ সপ্তাহ। 

মৃত্যু ভয় পাচ্ছেন কি? বিধায়ক থেকে নেতাদের কাছে প্রশ্ন তৃণমূল নেতৃত্বের

এসএসকেএম সরকারি হাসপাতালের একটি মেডিকেল বোর্ড আদালতের কাছে একটি প্রতিবেদনে জানায়, গর্ভধারণের পূর্ণ মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার সম্পূর্ণ চিত্র পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বোর্ড আরও জানিয়েছে যে, বিভিন্ন ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্টে জানা যাচ্ছে যে, ভ্রূণটি ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত, পাশাপাশি তাঁর খাদ্যনালী, হৃদয় ও পেটেও নানা ত্রুটি রয়েছে।

বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী জানান, এই প্রতিবেদনে আবেদনকারীর জীবনের কোনও ঝুঁকির কথা উল্লেখ নেই। ডাউন সিন্ড্রোম একটি জেনেটিক ব্যাধি যা জন্মগত ত্রুটি, বুদ্ধিবিকাশের অক্ষমতা এবং মুখের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলির বিকাশ অস্পষ্ট করে।



(এনডিটিভি এই খবর সম্পাদনা করেনি, এটি সিন্ডিকেট ফিড থেকে সরাসরি প্রকাশ করা হয়েছে।)
More News