উত্তরাখণ্ডে প্রবল বন্যায় ভেসে গেল কুড়িটি বাড়ি, নিখোঁজ ১৮

উদ্ধারকার্যের জন্য রাজ্য সরকারের তরফে আইটিবিপি, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে পাঠানো হয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরে প্রবল বৃষ্টিতে নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে।

দেরাদুন:

টনস নদীতে (Tons River) প্রবল বন্যায় উত্তরাখণ্ডে (Uttarakhand) ভেসে গেল প্রায় কুড়িটি বাড়ি। নিখোঁজ অন্তত ১৮ জন। রবিবার উত্তরাখণ্ডের উত্তর কাশীতে (Uttarkashi) এই বিপর্যয় ঘটে। গত কয়েকদিন ধরে প্রবল বৃষ্টিতে নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। বাজারে জল ঢুকে পড়ায় স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বিপদের আশঙ্কা-বার্তাও পৌঁছে গিয়েছিল। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিংহ রাওয়াত উত্তর কাশীর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন দ্রুত উদ্ধারকার্য চালানোর জন্য। পাশাপাশি আক্রান্ত মানুষদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি, এমনটাই জানিয়েছে সংবাদসংস্থা এএনআই।  উদ্ধারকার্যের জন্য রাজ্য সরকারের তরফে আইটিবিপি, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে পাঠানো হয়েছে।

বৃষ্টি এখনও প্রবল ভাবে চলতে থাকায় যানবাহনের চলাফেরা কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ফলে ঘটনাস্থলে পৌঁছনো এখনও কঠিন। ধস নেমে বন্ধ গঙ্গোত্রী হাইওয়ে। এই হাইওয়ে এই এলাকার খুব গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা।

অঝোরে বৃষ্টিতে ব্যাহত কলকাতার জনজীবন

হড়পা বান ও মেঘভাঙা বৃষ্টির কবলে পড়ে বহু এলাকার মানুষ বিপন্ন হয়ে পড়েছেন।

এরই মধ্যে আগামী তিন দিন উত্তর কাশীর চামোলি, পিথোরাগড়, দেরাদুন, পাউরি ও নৈনিতাল অঞ্চলে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

২০১৩ সালে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল উত্তরাখণ্ডে। হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয় এবং বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। প্রবল বৃষ্টিতে নদী ও দিঘিগুলি উপচে পড়ায় শহর ও গ্রাম ভাসিয়ে নিয়ে চলে যায়।

তবে কেবল বৃষ্টি নয়, এক সরকারি রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, বিশেষজ্ঞ দলের মতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হওয়াও এই বিপর্যয়ের পিছনে একটি কারণ।

সরকারি মতে, মৃতের সংখ্যা ৯০০ হলেও ৫৭০০ জনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এরই পাশাপাশি বন্যা ও ধসের ফলে ৫,০০০ রাস্তা, ২০০ সেতু ও বহুসংখ্যক বাড়ি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

More News